শীতে ইউরিক অ্যাসিড থেকে রেহাই মিলবে সহজ উপায়ে

প্রত্যেকের শরীরেই ইউরিক অ্যাসিড থাকে, তবে সেটা একটা স্বাভাবিক পরিমাণে। অস্বাভাবিক ব্যাপার তখন হয়, যদি কিডনি থেকে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বেরতে না পারে অথবা দেহে বেশি পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি শুরু হয়। তখন শুরু সমস্যার।

 

 

হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অস্থি সন্ধি বা জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে শুরু করে। তখন অস্থি সন্ধি লাল হয়ে ফুলে যায়, ব্যথা-যন্ত্রণা শুরু হয়। এর ফলে আক্রান্ত রোগীর হাঁটতে সমস্যা হতে পারে।

 

 

শীতে এই সমস্যা অনেকেরই বেড়ে যায়। এজন্য কেউ টমেটো বর্জন করছেন, কেউ বা ঢেঁড়স খাচ্ছেন না। বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ এই কারণে কষ্ট পাচ্ছেন। প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ইউরিক অ্যাসিডে গাঁটের ব্যথায় শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আমেরিকান কলেজ অফ রিউম্যাটোলজির এক গবেষণাপত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

 

 

বেশ কয়েক বছর আগেও ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে নানা খাবারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট কিছু খাবার ছাড়া, নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে সবই খাওয়া যায়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, এমন খাবার খাওয়া চলবে না, যাতে ওজন বেড়ে যায়। ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খান, রেহাই মিলবে ইউরিক অ্যাসিড থেকে।

 

 

যে কারণে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়তে পারে-যারা প্রত্যেকদিন প্রচুর পরিমাণে মাছ-মাংস খান, তাদের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। মদ্যপান ও কার্বোনেটেড কোলা জাতীয় ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ম করে খেলেও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে।

 

 

স্বাভাবিকের থেকে বেশি ওজন হলেও ঝুঁকি থাকে।অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা কিছুটা বংশগত। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার ঝুঁকি বেশি।অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিডনির অসুখ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে।

 

 

কী কী খাবেন এবং খাবেন না-কৃত্রিম রং, চিনি বা কর্ন সিরাপ দেয়া খাবার একেবারে বন্ধ করা উচিত। কোলা জাতীয় পানীয়, রং দেয়া জেলি, জ্যাম, সিরাপ, কৌটা বন্দি ফলের জুস খাওয়া যাবে না।

 

 

প্রক্রিয়াজাত ও ক্যান ফুড খাওয়া চলবে না।আচার, চানাচুর, নোনা মাছ খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।পালং শাক, বিনস, বরবটি, রাজমা খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। তবে রান্না করা শিম, মোটরশুঁটি, ঢ্যাঁড়স বা টমেটো খেতে পারবেন। পুঁই শাক, মুসুর ডাল, বিউলি ডাল, মাটন, সমুদ্রের মাছ খাওয়া মানা।

 

 

মাছ, মরগি বা ডিম খাওয়া যায়। তবে সব মিলিয়ে দিনে ৫০ গ্রামের বেশি নয়। মাছ বা মুরগি নিয়মিত খাওয়া গেলেও, মাছের মাথা, মুরগির কলিজা খাওয়া একেবারেই মানা।।

 

 

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেলে মূত্রনালিতে ইউরিক অ্যাসিড জমে স্টোন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খান। ওজন স্বাভাবিক রাখতে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

About admin

Check Also

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে মেনে চলুন এই ৯টি নিয়ম !!

আজকাল একটি অন্যতম সমস্যা হলো কিডনির রোগ। নিজের অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করতে পারে এই রোগ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *